ফাঁদ থেকে উদ্ধার
বাসে প্রতিদিন ভার্সিটি যাওয়ার সময় একটা বিষয় নিয়ে কয়েকদিন থেকে বিরক্ত সিথী। প্রতিদিন সে যেই সিটেই বসুক না প্রতিদিন ফার্মগেট থেকে একটা ছেলে উঠে তার পেছনের ছিটেই বসবে। না, ব্যাপারটা এমন নয় যে ছেলেটা সিথীকে বিরক্ত করছে। প্রতিদিন সে বাসে বসে ফোনে কারো সাথে কথা বলে, তার বলা লাইনগুলো এমন, " তোমার বয়ফ্রেন্ড তো একটা ফ্রড", " আরেহ তুমি তো জানোই না অয়ন এর কুকর্ম", " তোমার বয়ফ্রেন্ড তোমাকে ইউজ করার ছক কাটতেছে সাবধান হও" ইত্যাদি। কানে ফোনটা ধরে ছেলেটা একেক দিন একেক কথা বলে, আদৌ অপরপাশে কেউ থাকে কি না সিথীর বিশ্বাস হয় না। অয়ন সিথীর বয়ফ্রেন্ডেরও নাম। কিন্তু অন্য অয়ন ও তো হতে পারে, কিছু বলতে গিয়ে যদি অপমানিত হয় এই ভেবেই কিছু বলতে পারছে না সিথী। বাস থেকে নেমে সিথী ভার্সিটিতে ঢুকে গেল। ছেলেটা ও অন্যদিকে চলে গেল।
ক্লাসে বসে অনমনস্ক সিথী। কলম দিয়ে কি কি সব আঁকছে। দেখে ওর বেস্ট ফ্রেন্ড বর্ষা বলল,
-- কিরে তোর কিছু হয়েছে নাকি?
-- না আবার হ্যা। একটা বিষয় নিয়ে একটু
বিরক্ত।
-- সুদ্বীপ সারের এই ক্লাসটাও খুব গোলমেলে।
কিচ্ছু মাথায় ঢুকতেছে না। চল পেছন দিয়ে
বের হয়ে মাঠে বসি।
-- স্যার যদি কিছু বলে।
-- ধুর দেখতেই পাবে না। আর ক্লাস এমনেও দশ
মিনিট বাকি জাস্ট।
সিথী আর বর্ষা চুপিচুপি বেরিয়ে গেল। দুই প্যাকেট ঝালমুড়ি কিনে এনে মাঠের এক কর্ণারে বসে বর্ষা সিথীকে বলল,
-- বল এবার, কি নিয়ে ঝামেলাই আছিস?
সিথী বাসের ছেলের ব্যাপারে পুরো ঘটনা টা খুলে বলল। শুনে বর্ষা কিছুটা বিব্রত হয়ে বলল,
-- একটা কথা বলবো কয়েকদিন থেকে বলতে
চাচ্ছি, বলতে পারছি না।
-- তোর আবার কি? ঢং করিস না, বল।
-- সিরিয়াসলি, তুই যে কি মনে করবি।
-- কি হয়েছে বল (সিথী একটু আগ্রহ নিয়ে
জিজ্ঞেস করল)
-- আসলে গত সপ্তাহে আমি নদীর পাড়ে ঘুরতে
গেছিলাম আমার কলেজ লাইফের বান্ধবীদের
সাথে তখন অয়নকে দেখি একটা মেয়ের
সাথে ঘুরছে। আমি দুর থেকে দেখেছি তাই
শিওর না। ও না ও হতে পারে। তাই তোকে
বলেছিলাম না।
সিথীর চোখেমুখে চিন্তার ছাপ। ও কিছুই বলল না। ছুটির পরে রুমে এসে শুয়ে শুয়ে ভাবছে, "অয়ন কি সত্যিই আমাকে ঠকাচ্ছে, কিন্তু কিভাবে ওর সাথে তো রেগুলার কথা হয় আমার, অবশ্য রাতেও তো পরীক্ষার পড়ার চাপে কথা বলা হচ্ছে না কিছুদিন থেকে। ধুর কি যে ভাবছি, বর্ষা হয়ত ভুল দেখেছে "। সিথী নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছে কিন্তু ওর মন মানছে না।
পরেরদিন বাসে বসে সিথী ঐ ছেলেটার জন্য অপেক্ষা করছে। ওর পাশের ছিট টাই শুধু ফাঁকা রাখতে বলেছে হেল্পারকে বলে। ছেলেটা উঠে বাধ্য হয়ে ওর পাশের সিটে বসল। বসতেই সিথী বলল,
-- ভাইয়া আপনার সাথে আমার একটু কথা
ছিল।
-- জ্বী বলেন।
-- আমি প্রতিদিন বাসে আপনাকে আমার
পেছনে বসে কারো সাথে অয়নের ব্যাপারে
কথা বলতে দেখি। জানি মানুষের
কনভারসেশন শোনাটা অভদ্রতা। কিন্তু
আমার কেন জানি মনে হয় আপনি আমাকেই
কিছু ইঙ্গিত দেয়ার চেষ্টা করছেন।
-- ইয়ে মানে,..
-- দেখুন আমি আপনাকে অপমান করার জন্য
কিছু বলতেছি না। ব্যাপারটা যদি আমার সাথে
কানেক্টেড হয় তাহলে প্লিজ বলুন।
-- জ্বী, এক্চুয়ালি আপনার বয়ফ্রেন্ডের কথায়
আমি বোঝানোর চেষ্টা করেছি এতদিন যেন
আপনি সন্দেহ থেকেই খোঁজ খবর নেন আর
সত্যি টা জানেন। বাট সবটা এখানে বলা যাবে
না।
-- তাহলে কখন বলবেন?
-- ভার্সিটি তে আমার দুইটা জরুরি ক্লাস আছে।
সাড়ে এগারোটাই আপনার ডিপার্টমেন্টের
নিচে আমি থাকবো।
-- ওকে।
সিথী অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। অয়ন মাস্টার্সে পড়ে অন্য ভার্সিটিতে। সিথীর সাথে অয়নের প্রায় এক বছরের সম্পর্ক। সিথী ভাবতেই পারছে না অয়ন ওকে ঠকাচ্ছে। অয়নের আচরণে কখনও প্রকাশ পাই নি। ক্লাসে বসে বর্ষাকে বাসের ছেলেটার সাথে দেখা করার ব্যাপারটা জানিয়ে রাখলো সিথী, পরক্ষনে যদি কোনো বিপদে পড়ে এই ভেবে। পরপর দুই ক্লাস করে ডিপার্টমেন্টের নিচে দাঁড়িয়ে ছেলেটির জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। দশ মিনিট লেট করে ছেলেটি আসলো। এসে বলল, ' বাইকে বসুন, এক জায়গায় যেতে হবে '। সিথী কোন কথা না বলে উঠে পড়ল। ছেলেটির সিথীকে নিয়ে একটি পার্কে আসলো। সিথী বলল,
-- এখানে নিয়ে এলেন কেন?
-- আমি বাইরেই ওয়েট করবো। তবে আপনাকে
প্রমিজ করতে হবে ভেতরে গিয়ে কোন
সিন ক্রিয়েট করবেন না। তা না হলে আমি
প্রবলেমে পড়বো।
-- আচ্ছা ঠিক আছে। কি করতে হবে বলুন।
-- ভেতর ঢুকে বাম দিকের রাস্তাটা ধরে এগিয়ে
যাবেন। তারপরে ডানে তাকালে একটি চায়ের
দোকান দেখতে পাবেন। চায়ের দোকানে গিয়ে
জিজ্ঞেস করবেন ভেতরে পুলসাইড টা
কোনদিকে। পুলের একটু আগেই একটা
ঝোপ আছে। আড়াল থেকেই সবটা দেখতে
পাবেন।
-- আপনার নাম টা?
-- মিশন কমপ্লিট করে আসুন তারপরে জানাবো।
আপাতত মোবাইল নাম্বার টা রাখুন।
সিথী নাম্বার টা নিয়ে ছেলেটির দেওয়া ডিরেকশন অনুযায়ী পার্কের ভেতরে এগোতে থাকল। চায়ের দোকানীকে জিজ্ঞেস করে পুল সাইডে কাছে এসে বেশি খোঁজাখুঁজি করতে হলো না সিথীকে। অয়ন একটা বেঞ্চে বসে আছে। একটা মেয়ে ওর কাধে মাথা দিয়ে আছে। লোকজন তেমন নেই দুপুরের সময় বলে। দেখেই সিথীর মাথা ঘুরে গেল। সিথী অয়নের দিকে এগিয়ে যেতেই মনে পড়ল ছেলেটি নিষেধ করেছিল কোনো তামাশা না করতে।
সিথী অশ্রুচোখে বাইরে বেরিয়ে এলো। ছেলেটি বাইকে বসে দিব্যি সিগারেট টানছে। সিথীকে আসতে দেখেই বাইক থেকে নেমে একটা টিস্যু ধরিয়ে দিল। চোখ মুছে সিথী ছেলেটির সাথে বাইকে উঠল।
-- কান্না করবেন না, এখনো কান্না করার মতো
কিছুই শোনেন নি আপনি।
-- মানে? প্লিজ আপনি সবটা বলুন, আমাকে
আর কতক্ষণ ওয়েট করতে হবে?
-- হোস্টেলে যাবেন তো নাকি?
-- হ্যা, আপনি কিভাবে জানলেন আমি হোস্টেলে
থাকি?
-- চলুন আপনাকে হোস্টেলে পৌছে দিয়ে আসি।
দুপুর হয়ে গেছে।
-- প্লিজ এরকম করবেন না, আমি কতটা
টেনশনে আছি আপনি বুঝতে পারছেন?
ছেলেটা অনেকক্ষণ চুপ থেকে বলল,
-- টেনশনের কিছু নাই। কাল ঠিক দুপুর বারো
টাই আপনার ভার্সিটির বাইরে অপেক্ষা
করবেন।
-- কাল তো শুক্রবার।
-- যেটা বলছি সেটা করবেন। একটা সুন্দর ড্রেস
পরে আসবেন। এখন নেমে পড়ুন, আপনার
হোস্টেলে এসে গেছি। আর আমার নাম
অশিত।
রাতে শুয়ে শুয়ে সিথী কান্না করছে আর ভাবছে, 'কাল যে কি দেখা লাগে আল্লাহই জানে। অয়ন এত বড় প্রতারক অথচ একটা বারের জন্যও বুঝতে পারিনি। ইচ্ছা করছিল ওর দুই গালে ঠাস ঠাস করে চড় মারি।' সিথীর ভাবনাই ছেদ ফেলে বর্ষা রুমে এসে বলল,
-- দেখ তুই কান্নাকাটি করিস না। যা হয় ভালোর
জন্যই হয়। ছেলেটা কি আর কিছু বলেছে?
-- না কাল বলবে।
পরেরদিন ভার্সিটির সামনে অপেক্ষা করছে সিথী। অশিত পাঞ্জাবী পরে বাইক নিয়ে আসলো। পাঞ্জাবী পরে আসার কি আছে, রহস্যটা বুঝল না সিথী। সিথী বাইকে উঠতে যেতেই অশিত বলল, 'আপনি রিকশায় উঠুন'। রিকশাওয়ালা কে ডেকে বলল, ' এই মামা নিউমার্কেট যাবেন?'
রিকশা যেতে চাইলে সিথী উঠে বসল। অশিত বাইক নিয়ে চলে গেল। নিউমার্কেটে নেমে দাঁড়াতেই অশিত ফোন দিল সিথীকে।
-- রাস্তা পার হয়ে ডানে তাকালেই স্বপ্নের রাজ্য
লিখা কমিউনিটি সেন্টার আছে, চলে আসুন।
-- ওখানে কেন?
-- উফ মেয়ে মানুষ যে এত প্রশ্ন করে! আর হ্যা
আজকে সিনক্রিয়েট নিয়ে বাধা নেই। যা
ভালো লাগে করবেন। ফিল ফ্রি।
সিথী সংকোচ নিয়ে কমিউনিটি সেন্টারে ঢুকল। অশিত যে কি করতে চাচ্ছে কিছুই বুঝছে না সে। সামনে হাটতেই বরের আসনে অয়ন কে দেখতে পেল। মেজাজ টা বিগড়ে গেল ওর। হনহন করে সামনে গিয়ে অয়নের গালে একটা চড় বসিয়ে দিল। আশেপাশের সবাই ওর দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। অশিতও দাঁড়িয়ে আছে অয়নের পাশে। সিথীকে বাধা দিয়ে সবাই বলল, ' আপনি কে, আর এ কি করছেন'। সবাইকে শুনিয়ে চিৎকার করে সিথী বলল, ' আমি কে এই হারামি টা কে জিজ্ঞেস করুন।
অয়নকে উদ্দেশ্য করে সিথী বলল,
' কিরে বল তোর কুকীর্তি, বল আমি তোর কে হই। আমার সাথে প্রেম করিস আর আমাকে ঠকিয়ে বিয়ের বেলাই অন্য কেউ। '
অয়ন চুপ করে আছে। চিৎকার শুনে অয়নের হবু বউও সামনে চলে এসেছে। ওর হবু বউয়ের দিকে তাকিয়ে ভালোভাবে দেখলো সিথী।
তারপর বলল, ' ওহ ওয়াও, এ দেখি অন্য মেয়ে। কাল যে পার্কে একটা মেয়ের কাধে মাথা রেখে বসে ছিলি সে মেয়ে কই? ' মোবাইল থেকে গতকালের দুর থেকে তোলা ছবিটা অয়নের হবু বউকে দেখালো সিথী। তারপরে সবাইকে দেখালো। পরিস্থিতি তখন কন্ট্রোলের বাইরে। ঠিক সেই মুহুর্তে একটা মেয়ে তার বাবা আর ভাইকে সঙ্গে করে কমিউনিটি সেন্টারে ঢুকলো। এটা সিথীর জানার বাইরে। মেয়েটা বেশ সুন্দরী তবে ততটা মডার্ন নয়। দেখে মনে হচ্ছে গ্রামের মেয়ে। মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে ভেতরে ঢুকে অয়নকে বলল,
" এই তাহলে তোমার আসল রূপ। গ্রামে একটা বিয়ে করে রেখে এসে আবার শহরে নতুন বিয়ে।"
মেয়েটার কথা শুনে সবাই চমকে উঠল। মেয়ের বাবা অয়নদের গ্রামের চেয়ারম্যান। তিনি সবাইকে সব ঘটনা খুলে বললেন। অয়ন পড়াশোনাই ভালো ছিল বলে গরিব হওয়া সত্ত্বেও চেয়ারম্যান সাহেব উনার মেয়ে রূপার সাথে ওর বিয়ে দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সব খরচ ওর শ্বশুর বহন করে। আর এখানে এসে হাজারটা মেয়ের সাথে অয়ন প্রেমের নাটক করে। মিরা কে বড়লোকের মেয়ে পেয়ে পটিয়ে বিয়ের আয়োজন করেছে আজকে।
সবটা শুনে মিরা আর রূপা পায়ের জুতা খুলে অয়নকে পেটালো। আর সিথীকে মিরা ধন্যবাদ জানালো সঠিক সময়ে এসে বিয়েতে বাধা দেওয়ার জন্য। মিরার বাবা অয়নকে পুলিশে দিলেন। সিথী সেখান থেকে বেরিয়ে গেল। খানিকটা দুরে যেতেই অশিত সিথীকে ফোন দিয়ে দাঁড়াতে বলল। অশিত এসে সিথীকে বলল ওর বাইকে উঠতে।
-- কোথাও বসি? (অশিত)
-- জ্বী। (সিথী)
বিকেল হয়ে গেছে বিয়ের এসব ঝামেলাই। অশিত সিথীকে নিয়ে ক্যাম্পাসে এসে মাঠে বসল।
-- তারপর, রাগ মিটছে? (অশিত)
-- আচ্ছা আপনি অয়নকে কিভাবে চিনেন?
(সিথী)
-- অয়ন আমার রুমমেট।
-- হোয়াট?
-- জ্বী, বড্ড বাড় বেড়ে গেছিল অয়ন। এতো
মেয়ে জীবন নিয়ে খেলছিল দেখে আমার সহ্য
হচ্ছিল না। মিথ্যার পর মিথ্যা।
-- আপনি আমাকে কিভাবে চিনলেন?
-- গল্পে শুনেছি তোমার কথা ওর মুখে। তুমি
কতটা ভালো মেয়ে ওকে কত বিশ্বাস করো।
কি কি করেছো ওর জন্য। তাই ওর
অনুপস্থিতিতে আমি তোমার ফোন নাম্বার
আর ডিটেইলস টা নিই।
-- আর ওর বউ এর কথা?
-- এই বিষয়টা অবশ্য অয়ন বলে নি। ওর গ্রামে
আমার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে
শুনেছিলাম। আর অয়ন কখন কোথায় ডেটে
যেত বলে যেত বন্ধুদের। তাই সবটাই আমার
জানা।
-- আপনি আপনার রুমমেটের বিষয়টা ফাঁস
করলেন কেন?
-- ও অনেক মেয়েকে ফাঁদে ফেলে ব্যবহার
করতো। আমি চাইনি তুমি বিপদে পড়ো।
-- শুধু আমাকে সেভ করার জন্য?
-- এর পেছনেও একটা কারণ আছে।
-- কি কারণ?
-- অয়নের আগে আমিই তোমাকে পছন্দ
করতাম। বন্ধুদের মধ্যে আমি তোমার ছবি
দেখিয়েছিলাম। তখন অয়ন আমাকে বলে
তুমি অন্য কারো সাথে প্রেম করো। ওর সাথে
যে তোমার সম্পর্ক আছে এটাও আমি
জানতাম না। ওর বিয়ের ব্যাপারে জানার
পরে আমি যখন ওর গার্লফ্রেন্ডদের নাম্বার ও
ফেসবুক আইডি লুকিয়ে চেক করি তখন
তোমাকে দেখতে পেয়েছিলাম। আর তোমাদের
কনভারসেশন টা লুকিয়ে পড়েছিলাম।
-- অয়ন এত্ত বড় প্রতারক! (সিথী কেঁদে ফেলল)
-- যা হয় হয়তো ভালোর জন্যই হয়।
-- আমাকে সেভ করার জন্য ধন্যবাদ।
অনেকক্ষণ চুপ থেকে অশিত বলল,
-- আমি তোমাকে অনেক পছন্দ করি সিথী।
কিন্তু আমার সাথে তোমাকে সম্পর্কে জড়াতে
হবে না। যদি আমার প্রতি বিন্দুমাত্র
ভালোলাগা কখনও কাজ করে জানিও। বউ
সাজে তোমাকে ঘরে তুলতে চাই।
কথাটা শুনে সিথী কিছুই বলল না। একদিন হঠাৎ সকালে অশিতের হোস্টেলের সামনে এসে ফোন দিল সিথী।
-- একটু নিচে আসবেন?
-- মানে?
-- আপনার হোস্টেলের নিচে দাঁড়িয়ে আছি।
ঘুম থেকে উঠে চোখ মুছতে মুছতে নিচে নামলো অশিত।
-- আপনি হঠাৎ এখানে, আগে জানালে আমিই
আসতাম।
-- আমি খুব স্ট্রেট ফরওয়ার্ড। সোজাভাবেই
বলছি, আমাকে বিয়ে করবেন?
-- একশ, হাজার, লক্ষ, কোটি, মিলিয়ন, বিলিয়ন
বার হ্যা, হ্যা, হ্যা।
-- হা হা।
(সমাপ্তি)
গল্প: ফাঁদ থেকে উদ্ধার
লেখনীতে-- নূর-এ সাবা জান্নাত
Comments
Post a Comment